আব্দুর রহমানঃ 
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রমজানবেগ এলাকার মিলিটারি চকের কাঁশবন থেকে নিখোঁজের ২০ দিন পর অটো চালকের অর্ধ গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার রাতে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। পাশাপাশি এঘটনার সাথে জড়িত ৪ জনকে গ্রেফতার ও ছিলতাইকৃত অটোটির খন্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়।

 

আটককৃতরা হলেন, রাজন শেখ (২৫), ইমরান সরকার (১৯), শরীফ সুলতান ওরফে আফসু (২৫), মোঃ ইউসুফ গাজী (৬০) এদের মধ্যে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হলো মোঃ শরীফ ওরফে আফসু। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা হত্যাকান্ডের ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মো: মেনহাজুল আলম পিপিএম জানান, আসামী শরীফ ওরফে আফছু জুয়া খেয়ে তার ফুফাতো সুরজের কাছে ঋনী হয়। সেই ঋনের টাকা পরিশোধ করতে বন্ধু রাজন এবং ইমরানকে নিয়ে অটো ছিনতাইয়ের প্লান করেন।

সেই অটো ছিনতাইয়ে টার্গেট করা হয় আসামীর পূর্ব পরিচিত অটো চালক সাকিলকে। গত ২৭ জানুয়ারি আসামীরা অটো চালক সাকিল (২৪) কে ভাড়া করে। এরপর তারা সাকিলকে বিভিন্ন স্থান ঘুরে নির্জন চরে নিয়ে গলায় মাফলার প্যাচিয়ে হত্যা করেন। হত্যার পর সাকিলের মরদেহ কাঁশবনে ফেলে যায় তিন বন্ধু। এরপর অটোটি তারা খন্ডিত করে ৪ নং আসামীর কাছে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। এছাড়াও ভিকটিম সাকিলের ফোনটিও ২ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয় আসামীরা। দীর্ঘ দিন লাশটি সেখানে পড়ে ছিলো, গত ১৫ ফেব্রুয়ারী স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ নিহতের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

পরে স্বজনরা লাশের গায়ে থাকা প্যান্ট, শার্ট ও কোমড়ের বেল্ট দেখে সাকিলকে সনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহত সাকিল এর পিতা শাহীন খালাসি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। তথ্য প্রযুক্তি ও নিহত অটো চালকের ব্যবহৃত ফোনের সুত্র এই আসামীদের আটক ও খন্ডিত অটো রিক্সাটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে সাকিল হত্যাকান্ডে জরিতদের আটকের খবরে স্থানীয়রা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোঃ মেনহাজুল আলম পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ফিরোজ কবির মুন্সীগঞ্জ সার্কেল অফিসার মোঃ বিল্লাল হোসেন, পিপিএম এবং মুন্সীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মমিনুল ইসলাম সহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *